চলন্ত গাড়িতে খাম, কিন্তু ভেতরে কী? জানাল পুলিশ

রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চলন্ত গাড়িকে ঘিরে এক অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একটি মোটরসাইকেল থেকে নেমে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি দ্রুতগতিতে এসে তারেক রহমানের বুলেটপ্রুফ গাড়িতে স্কচটেপ দিয়ে একটি সাদা খাম সাঁটিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় গাড়ির ভেতরেই ছিলেন তারেক রহমান এবং সামনে-পেছনে অবস্থান করছিল তার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী—সিএসএফের সদস্যরা।

ঘটনাটি ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়—খামটিতে কী ছিল, কেনই বা এমন অদ্ভুত পদ্ধতিতে এটি গাড়িতে লাগানো হলো, আর এর পেছনে কারা জড়িত?

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে গুলশান ৬৫ নম্বর সড়কে। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে কয়েক দিন পর, রোববার। এ ঘটনায় গুলশান থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালক বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানান, একটি মোটরসাইকেল হঠাৎ এসে দ্রুততার সঙ্গে গাড়িতে টেপ লাগানো একটি খাম সাঁটিয়ে টান দিয়ে চলে যায়। কী উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়—ওই খামের ভেতরে কী ছিল। এ প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, খামটি তাদের হাতে আসেনি এবং তারা নিজেরা খামের ভেতরের কিছু দেখেনি। তবে বিএনপি ও তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, খামের ভেতরে কোনো চিঠি, বার্তা কিংবা চিরকুট ছিল না। খামটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। শুধু একটি খালি সাদা খাম স্কচটেপ দিয়ে গাড়ির গায়ে লাগানো হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার রওনক আলম বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। খামের ভেতরে কী ছিল বা আদৌ কিছু ছিল কি না—সে বিষয়ে পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে খামটি সিএসএফের হেফাজতে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালি খাম হলেও ঘটনাটি প্রতীকী বা মানসিক চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে। বিশেষ করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও এর পেছনের কারণ স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রহস্যময় এই খাম নিয়ে কৌতূহল ও আলোচনা অব্যাহত থাকছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

Check Also

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।