রাজধানীর উত্তরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুমিল্লার বাসিন্দা কাজী ফজলে রাব্বী রিজভী, তাঁর স্ত্রী আফরোজা বেগম সুবর্ণা এবং দুই বছর বয়সী ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের মাঝে।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ১০টায় কুমিল্লা শহরের দারোগাবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগামী শনিবার সকাল ১০টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী কাজী বাড়ি প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা, মা ও শিশুপুত্রকে।
নিহত কাজী ফজলে রাব্বী রিজভী (৩৭) কুমিল্লা জিলা স্কুলের ২০০৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আফরোজা বেগম সুবর্ণা (৩০) স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে রাফসান ঢাকায় নানার বাড়িতে থাকায় অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে উপস্থিত ছিল না। ফলে সে প্রাণে বেঁচে যায়। তবে ছোট ছেলে ফাইয়াজ রিশান বাবা-মায়ের সঙ্গেই বাসায় ছিল।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ফজলে রাব্বীর প্রথম স্ত্রী তিথী প্রায় দুই বছর আগে আকস্মিক অসুস্থতায় মারা যান। পরিবার ও আত্মীয়দের অনুরোধে পরে তিনি তিথীর বান্ধবী আফরোজা বেগম সুবর্ণাকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় ফাইয়াজ রিশান।
প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার আগে রাব্বী তাঁর সন্তানকে নানার বাসায় রেখে যেতেন এবং ফেরার সময় নিয়ে আসতেন। কিন্তু শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সেদিন পুরো পরিবার বাসায় ছিল। সেই সময়ই ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
রাব্বীর বাবা কাজী খোরশেদুল আলম ও মা ফেরদৌস আরা ঢাকায় গিয়ে মরদেহ গ্রহণ করেন এবং রাতে কুমিল্লায় নিয়ে আসেন। তাঁর মা কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন এবং সম্প্রতি দেবিদ্বার গার্লস হাইস্কুলে বদলি হয়েছেন।
একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের চোখে ছিল অশ্রু, মুখে ছিল গভীর বেদনার ভাষা।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে