চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে প্রবাসীসহ ৯৫ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিপুলসংখ্যক পোস্টাল ভোট কিছু কিছু আসনে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসন থেকে মোট ৯৫ হাজার ২৪৬ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে। এ আসনে পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩০১ জন। বিপরীতে সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে, যেখানে নিবন্ধিত ভোটার ৩ হাজার ২০১ জন।
এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮৫ হাজার ১২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫ জন এবং নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯১ জন। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় এক লাখের বেশি।
নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটাররা আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নিজ নিজ আসনের পছন্দের প্রার্থীকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। ভোট দেওয়ার পরদিন থেকেই ব্যালট ডাকযোগে ফেরত পাঠানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে না পৌঁছালে সেই ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ. জি. এম. নিয়াজ উদ্দিন বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। তাঁর মতে, প্রবাসীরা এতদিন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না। এবার তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা অনেক আসনে ফল নির্ধারণে ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। তবে পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই উদ্যোগ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিতদের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দেশের ভেতরে তিন শ্রেণির ভোটার রয়েছেন। তারা হলেন—নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা।
এবারের নির্বাচনের একটি বড় ভিন্নতা হলো—প্রথমবারের মতো প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন–সংক্রান্ত গণভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন পোস্টাল ভোটাররা। ফলে এই ভোটগুলো গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফলেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের ভেতর থেকেই পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। কমিশনের তথ্যমতে, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপ থাকায় এটি অনেকটা ‘ব্ল্যাক বক্স’-এর মতো হয়ে উঠছে। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ব্যালট পাঠানো ও ভোট দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
ইসির আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এর আগে জানিয়েছেন, পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের দায়িত্ব। গোপনীয়তা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করা হতে পারে।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে