রাজবাড়ীতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়াকিটকি ও মাদকসহ বিএনপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে তাঁর এক সহযোগীকেও আটক করা হয়। গতকাল রোববার দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের একটি ইটভাটায় এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতার নাম খোন্দকার মশিউল আজম (৫৫)। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন বালিয়াকান্দি সদর উপজেলার শেখপাড়ার বাসিন্দা মো. রিদয় শেখ ওরফে পাপ্পু (৩০)।

যৌথ বাহিনী সূত্র জানায়, অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি দেশি বন্দুক, দুটি চাকু, তিনটি ওয়াকিটকি, আটটি মুঠোফোন, চারটি ওয়াকিটকির চার্জার, একটি মদের বোতল, তিনটি খালি মদের বোতল এবং নগদ ৩৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

স্থানীয় সেনাক্যাম্প ও পুলিশ সূত্রের তথ্যমতে, সম্প্রতি বালিয়াকান্দি সদর উপজেলা বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের একটি চেকপোস্টে এক মোটরসাইকেল আরোহীকে আটক করে জরিমানা করা হয়। এ খবর পেয়ে খোন্দকার মশিউল আজম দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের ওপর চড়াও হন। পরে তিনি ওই মোটরসাইকেল আরোহীকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেন।

এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে গত ১৭ ডিসেম্বর ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক খাইরুল ইসলাম বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার আসামি খোন্দকার মশিউল আজম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া গত ৫ আগস্টের পর বালিয়াকান্দি সদর উপজেলার ‘দুবলাবাড়ি জামিয়া ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটার মালিক মো. সাব্বির হোসেনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইটভাটাটি দখলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে খোন্দকার মশিউল আজমের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরক দ্রব্য, চাঁদাবাজি, মারামারি, হত্যাচেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।

গতকাল দুপুরে দুবলাবাড়ি ইটভাটার অফিসে বসে খোন্দকার মশিউল আজম আড্ডা দিচ্ছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী সেনাক্যাম্পের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও মাদকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যৌথ বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোন্দকার মশিউল আজম স্বীকার করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে একটি বাহিনী এলাকায় চাঁদাবাজি কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়াই ওয়াকিটকি ব্যবহার করে তাঁর বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে খোন্দকার মশিউল আজমের স্ত্রী কোহিনুর বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্বামীর বিরুদ্ধে আগের একটি মামলার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও জানতে পেরেছি। আমি বিজ্ঞ আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই।’

সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার প্রথম আলোকে জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশের ওপর হামলার মামলায় খোন্দকার মশিউল আজমকে গ্রেপ্তার করে রাজবাড়ী সদর থানায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর আওতায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার তাঁকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Check Also

উত্তরায় ছয়তলা আবাসিক ভবনে আগুন: দোতলার ডাইনিং রুম থেকে সূত্রপাত, নিহত ৬

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম সেক্টরে একটি ছয়তলা আবাসিক ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।