মৃত মা–বাবার জন্য সওয়াব পৌঁছাতে যেসব আমল সবচেয়ে বেশি উপকারী

মৃত্যু মানুষের জীবনের অবশ্যম্ভাবী সত্য। পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন—
“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” (আলে ইমরান: ১৮৫)

মানুষ মৃত্যুর পর আর দুনিয়ায় ফিরে আসতে পারে না, তবে জীবিত সন্তানদের কিছু বিশেষ আমল মৃত মা–বাবার জন্য উপকার বয়ে আনে। অনেকেই জানতে চান—
মৃত মা-বাবার জন্য কোন কোন আমল করলে সওয়াব পৌঁছাবে?

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি উপকারী কয়েকটি আমল নিচে তুলে ধরা হলো—


১. নেক সন্তানের দোয়া

মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, শুধু তিন ধরনের আমল ছাড়া। এর একটি হলো নেক সন্তান, যে নিয়মিত তার মা–বাবার জন্য দোয়া করে।
রাসুল (সা.) বলেছেন—
“মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি ছাড়া— সদকায়ে জারিয়া, ইলমে নাফে এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।” (মুসলিম)

নেক সন্তানের দোয়া সরাসরি মৃত মা-বাবার আমলনামায় সওয়াব হিসেবে পৌঁছে যায়।


২. মৃত মা–বাবার পক্ষ থেকে দান–সদকা করা

সন্তান যদি তাদের পক্ষ থেকে দান করে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেন—
“হে আল্লাহ, এই সদকার সওয়াব আমার মা–বাবার কাছে পৌঁছে দাও”—
এটি তাদের জন্য উপকারী হয়। ইসলামী শরিয়তে এটি গ্রহণযোগ্য ও ফজিলতময় আমল।


৩. নিজে নেক আমল করা

সন্তান নিজে যত বেশি নেক আমল করবে—

  • নামাজ
  • রোজা
  • দান
  • ভালো কাজ
    এসবের সওয়াবের প্রভাব মৃত মা-বাবার জন্যও পৌঁছায়। মা–বাবা সন্তানকে নেক পথে চলার শিক্ষা দিয়েছেন— তাই সন্তানের নেক আমলের সওয়াব তাদের জন্যও বরকত হিসেবে ধরা হয়।

৪. কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া

কুরআন তিলাওয়াত করে সওয়াব হেদিয়া করা, বিশেষ করে সুরা ইয়াসিন, সুরা ইখলাসসহ অন্যান্য দোয়া ও জিকির করা—মৃতদের জন্য উপকারী আমল হিসেবে গণ্য।


৫. কবর জিয়ারত ও দোয়া

কবর জিয়ারত করা সুন্নত। জিয়ারতের সময় দোয়া করলে মৃত ব্যক্তি তা থেকে উপকৃত হন।

Check Also

দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা

দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে আজ শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।