ওয়াশিংটনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছে পর্যবেক্ষক মহল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানান—যা ভবিষ্যৎ বাদশাহর প্রতি বিশেষ সম্মানের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফর করলেন এমবিএস। সেই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া যুবরাজ অনেকটা একঘরে হয়ে পড়েছিলেন। তবে এ সফরে সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সামরিক মহড়া, অশ্বারোহী বাহিনীর স্কর্ট ও লালগালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক অভ্যর্থনা জানানো হয় সৌদি যুবরাজকে। সন্ধ্যায় ছিল রাজকীয় নৈশভোজ, যেখানে ইলন মাস্ক, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অ্যাপল সিইও টিম কুকসহ বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
এই সফরের মাধ্যমে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন সামরিক চুক্তি, ভবিষ্যতে এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রতিশ্রুতি, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এবং নন–ন্যাটো প্রধান মিত্রের মর্যাদা পাওয়ার পথে অগ্রগতি।
বিশ্লেষকদের মতে, সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো যুবরাজের প্রতি ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সমর্থন পুনর্বহাল হওয়া। কার্নেগি মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু লেবার বলেছেন, “এই সফর দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি সম্পর্কে এমবিএস কেন্দ্রীয় ভূমিকায়ই থাকবেন।”
ট্রাম্প প্রশাসন রিয়াদ–তেল আবিব সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগে অগ্রসর হতে চায়। যুবরাজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি সম্ভব—তবে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা আগে দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
সৌদি আরবে সফরটিকে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। দেশটির গণমাধ্যমে অভ্যর্থনা ও বৈঠকের প্রতিটি দৃশ্য গুরুত্ব দিয়ে প্রচারিত হচ্ছে। আরব নিউজের প্রধান সম্পাদক মন্তব্য করেছেন, “দুই দেশের সম্পর্ক আর শুধু তেল ও নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়—পারমাণবিক সহযোগিতা, মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চ প্রযুক্তিকে ঘিরে এক নতুন কৌশলগত অধ্যায় শুরু হয়েছে।”
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে