২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর কবে অনুষ্ঠিত হবে—এ নিয়ে অপেক্ষা ও আগ্রহ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে মুসলিম বিশ্বে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সর্বশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর শুক্রবার, ২০ মার্চ হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রমজানের চাঁদ দেখা যেতে পারে। এই হিসাব সঠিক হলে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলছে, ২০২৬ সালে রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ছুটির সম্ভাব্য সময়সূচি
রমজান ৩০ দিন হলে আমিরাতে ১৯ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত মোট চার দিনের ঈদের ছুটি হতে পারে। এরপর ২৩ মার্চ থেকে স্বাভাবিকভাবে অফিস–আদালত, সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব সাধারণত চাঁদ উদয়ের সময়, চাঁদের অবস্থান, সূর্য–চাঁদের দূরত্ব এবং দিগন্তের ওপর দৃশ্যমানতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তবে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, চাঁদ দেখা বিষয়টি সবসময়ই প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল।
সেই কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই পূর্বাভাস চূড়ান্ত নয়। শেষ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাঁদ দেখা কমিটি, যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যবেক্ষক ও খগোল বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করে।
বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রস্তুতি
২০২৬ সালে রমজান আগেভাগে শুরু হওয়ায় এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে স্কুল–কলেজের রুটিন, অফিস সময়সূচি এবং কর্মঘণ্টায় পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে রমজান মাসে কর্মসময়ের বিশেষ বিধান থাকে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ, কেনাকাটা, হোটেল বুকিং এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক পরিকল্পনাতেও এই সম্ভাব্য তারিখ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র
জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত তথ্য: গালফ নিউজ
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে