ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ সামনে রেখে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় উত্তেজনা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে সকাল থেকেই ঢাকার সড়ক ছিল প্রায় ফাঁকা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলও ছিল কঠোর। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বরগুনা, কিশোরগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় সড়ক ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ভোররাতে সরকার মার্কেট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি পিকআপভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় দ্রুত জিরাব মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা আবু সায়েম মাসুম জানান, আগুনে পিকআপের সামনের অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে আখাউড়া–কসবা সড়কের মোগড়া ব্রিজের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’—এমন স্লোগানে মুখর হয় এলাকা। এসময় তারা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মুক্তির দাবিও জানান। তবে আখাউড়া থানার ওসি ছমি উদ্দিন বলেছেন, তারা এ ধরনের কোনো ঘটনার আনুষ্ঠানিক সংবাদ পাননি।
বরগুনার আমতলী উপজেলায় ফেরিঘাট রোডে পার্কিংয়ে থাকা স্বর্ণা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নদীর ঘাটে বেঁধে রাখা একটি যাত্রীবাহী ট্রলারে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুরো নৌকাটি পুড়ে যায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে কামালপুর ব্রিজের নিচে ঘটনাটি ঘটে। নিকলী থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকায়ও নাশকতার প্রস্তুতিকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানী ও আশপাশের জেলায় নিরাপত্তা জোরদারে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি নিয়মিত টহল দিচ্ছে।
জুলাই আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, অ্যাডভোকেট আনিসুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ সামনে রেখে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ লকডাউনের ডাক দেয়। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা করেছে, আগামী সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে