নিউইয়র্ক থেকে অনলাইন ডেস্ক | ০৯ নভেম্বর ২০২৫
নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এখনো ভাবছেন, কোথায় থাকবেন তার প্রথম মেয়রিয়াল পদাবধি। বর্তমানে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ভাড়া থাকেন কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার এক শোবার ঘরের ফ্ল্যাটে—মাসে মাত্র ২,৩০০ ডলার। রান্নাঘরের সিঙ্কে পানি পড়া, সীমিত জায়গা—সবকিছুই এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।
“আমাদের এক শোবার ঘরের ফ্ল্যাটটা এখন ছোট হয়ে যাচ্ছে,” সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন মামদানি। ভাড়া ফ্ল্যাটের সুবিধা থাকলেও—যেমন তাপ পোহানো ও গরম পানি, ভেতরের লন্ড্রি রুম—তবু স্থান ও নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট।
তাঁর সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা গ্রেসি ম্যানশন। ২২৬ বছরের পুরোনো, ১১ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই প্রাসাদ শুধু বাড়ি নয়, বরং ইতিহাস আর ধন-সম্পদের মিলন। মেহগনি কাঠের দরজা, ঝাড়বাতি, বিশাল লন ও ফলের বাগান—সবই আছে এখানে। সাবেক মেয়রদের পরিবারও এ বাসভবনকে আধুনিক ও ব্যক্তিগতভাবে সাজিয়েছে।
গ্রেসি ম্যানশনে আছে পূর্ণকালীন শেফ, বালরুম, ডাইনিং হল, বিনোদনকক্ষ, নাচের ঘর এবং পাঁচটি শোবার ঘর। সাবেক মেয়ররা চাইলে এই ঘরগুলোকে আধুনিক ও ঘরোয়া রূপ দিয়েছেন। এর সুবিধা ছাড়াও, এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব শক্ত—উঁচু বেড়া, ক্যামেরা, এবং বাইরে থাকা পুলিশ।
তবে এই বিলাসবহুল প্রাসাদে থাকা মানেই কিছুটা বিচ্ছিন্নতা। সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর ছেলে দান্তে বলছেন, “এখানে থাকলে আপনি নিউইয়র্কের দৈনন্দিন বাস্তবতা থেকে দূরে চলে যান।”
মামদানি এখনো নিশ্চিত নন, গ্রেসি ম্যানশনে উঠবেন কি না। তিনি বলেছেন, “আমি এখনো জানি না কোথায় থাকব, তবে জানি কোথায় কাজ করব—সিটি হলে।”
নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মেয়র হিসেবে মামদানির এই পদক্ষেপ এখন শহরের নজরে। যে বাড়ি তাঁকে সম্ভাব্য নতুন জীবন, নিরাপত্তা এবং পার্টির আয়োজনের সুবিধা দেবে—সেটাই হতে পারে তাঁর প্রথম অফিসিয়াল ঠিকানা।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে