যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় নগদের সংকট, ব্যাংক খুলেও অর্থহীন লেনদেন

রয়টার্স | গাজা ও কায়রো | প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫

নগদ অর্থ তোলার জন্য ব্যাংক অব প্যালেস্টাইনের সামনে সারিবদ্ধ ফিলিস্তিনিরা—মধ্য গাজার নুসেইরাতে, ২৭ অক্টোবর। ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধবিরতির পর গাজা উপত্যকার কিছু ব্যাংক খুলেছে, তবে নগদ অর্থের তীব্র ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে দীর্ঘ সারি, অপেক্ষার পর হতাশা—এটাই এখন গাজার বাস্তব চিত্র। নগদ সংকটে বাজারে নিত্যপণ্যের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

ইসরায়েলি হামলায় গাজার বহু ব্যাংক ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ছয় দিন পর, ১৬ অক্টোবর থেকে কয়েকটি ব্যাংক পুনরায় চালু হলেও লেনদেন কার্যত বন্ধ। বেশিরভাগ মানুষ ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরছেন।

৬১ বছর বয়সী ওয়ায়েল আবু ফারেস রয়টার্সকে বলেন, “ব্যাংকে কোনো টাকা নেই, নগদ সঞ্চালন নেই। শুধু কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে ফিরে আসতে হয়।”

অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আবু জাইয়্যাব জানান, ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম সীমিত। ইলেকট্রনিক লেনদেন চলছে, কিন্তু নগদ টাকার অভাবে আমানতদাররা অর্থ তুলতে পারছেন না। ফলে অনেকে বেতন ক্যাশ করতে বাধ্য হচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ীর কাছে, যারা ২০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিচ্ছেন।

গাজার সাত সন্তানের মা ইমান আল-জাবারি বলেন, “আগে ব্যাংকে এক ঘণ্টায় কাজ শেষ হতো। এখন দুই–তিন দিন সময় লাগে, তাতেও ৪০০–৫০০ শেকেলের বেশি পাওয়া যায় না। এত দামে বাজারে এই টাকায় কী পাওয়া যায়?”

অর্থসংকটের সুযোগ নিচ্ছে কিছু মানুষও। যেমন ৪০ বছর বয়সী মানাল আল-সাইদি ছেঁড়া-ফাটা নোট মেরামতের কাজ করে দিনে ২০–৩০ শেকেল আয় করছেন। তিনি বলেন, “এই আয় দিয়েই রুটি আর সামান্য খাবার কিনে দিন চলে।”

গাজায় এখন সবজির দাম আকাশছোঁয়া, খাবার, ওষুধ ও আশ্রয়ের সংকট ভয়াবহ। নগদ অর্থ না থাকায় অনেকে এখন ব্যাংক অ্যাপের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক লেনদেনে পণ্য কিনছেন, তবে তাতেও বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অধীনস্থ সংস্থা সিওজিএটি (COGAT) গাজায় ত্রাণ ও নগদ প্রবাহের নিয়ন্ত্রণ করছে। কবে নগদ অর্থ ঢুকবে, সে বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

গাজা ভিত্তিক ব্যবসায়ী সামির নামরাউতি বলেন, “এমন কিছু টাকা পাচ্ছি, যা চেনা যায় না। তবু সিরিয়াল নম্বর থাকলে আমি তা গ্রহণ করি—কারণ টাকার অভাবে ব্যবসা থেমে থাকলে চলবে না।”

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৫২৭। যুদ্ধবিরতির পরও হামলা, দারিদ্র্য, এবং নগদ সংকটে গাজার মানুষের জীবনযুদ্ধ এখন আগের চেয়ে আরও কঠিন।

Check Also

এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর এক বছরে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।