১৮ লাখ টাকায় চাকরির ফাঁদ, নওগাঁয় শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নফাঁস চক্রের পর্দাফাঁস

নওগাঁয় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগে চক্রের দুই মূল হোতাসহ মোট ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১টি মোবাইল ফোন, আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং প্রায় ৩৮ হাজার টাকা নগদ অর্থ।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জেলার ৩৬টি পরীক্ষা কেন্দ্রে একযোগে অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ এই আটক কার্যক্রম পরিচালনা করে। সন্ধ্যায় নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, আটক হওয়া দুই মূল হোতা হলেন—মহাদেবপুর উপজেলার আহসান হাবিব এবং পত্নীতলা উপজেলার মামুনুর রশিদ। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের নামে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তি করে আসছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নওগাঁ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রথমে চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। সেখান থেকে পরীক্ষার্থীসহ কয়েকজনকে আটক করা হলে তাদের মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো ভুয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়।

পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের প্রধান আহসান হাবিব স্বীকার করেছেন, প্রতিটি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অগ্রিম টাকা আদায়ও করা হয়।

এছাড়া নওগাঁ শহরের আরেকটি হোটেল ও বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসৎ উপায়ে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট করার এমন অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রশ্নফাঁস ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনায় নওগাঁ জেলায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Check Also

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।