রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ শনাক্তের দাবি করেছেন তাঁদের স্বজনেরা। তবে সকল মরদেহ পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে প্রত্যেকটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “নয়জন পুরুষ ও সাতজন নারীর মরদেহ এসেছে। সবগুলো লাশের চেহারা পুড়ে এমনভাবে বিকৃত যে চোখে দেখে শনাক্ত করা কঠিন। তবে ১০ জনের স্বজনরা পরিচয় দাবি করেছেন। এখন পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে ওই লাশগুলো হস্তান্তর করা হতে পারে।”
বিস্ফোরণ ও আগুনের সূত্রপাত
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিয়ালবাড়ির ৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত একটি টিনশেড রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। বিস্ফোরণের পর আগুন পাশের চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পুড়ে ভবনের তিন ও দোতলা থেকে ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওই ভবনের দোতলায় স্মার্ট প্রিন্টিং নামের একটি প্রিন্টিং কারখানা ও তিন-চারতলায় আরএন ফ্যাশন নামে একটি পোশাক কারখানা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুনের সময় ভবনের ছাদের দরজা তালাবদ্ধ ছিল, ফলে অনেকেই বের হতে পারেননি।
অগ্নিনিরাপত্তাহীন ভবন
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটি মূলত চারতলা হলেও ছাদে টিনশেড দিয়ে আরও একটি তলা নির্মাণ করা হয়েছিল। ভবন ও রাসায়নিক গুদাম দুটিতেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এই ভবনের কোনো ফায়ার সেফটি প্ল্যান বা লাইসেন্স ছিল না।
নিহতদের মরদেহ মর্গে, স্বজনদের আহাজারি
গতকাল সন্ধ্যায় উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আজ বুধবার সকালে মর্গে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। কেউ কেউ পোড়া লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন, আবার কেউ আবার পরিচয় নিশ্চিত করতে শারীরিক চিহ্ন বা পরিধানের কিছু অবশেষ খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন।
প্রশাসনের ভূমিকা
হাসপাতাল পরিচালক জানিয়েছেন, স্বজনদের দাবি সত্ত্বেও যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া লাশ হস্তান্তর করা হবে না। অনুমতি পেলেই শনাক্ত হওয়া মরদেহ হস্তান্তর করা হবে এবং বাকিগুলোর পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাখা হবে।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে