জাতীয় নির্বাচনের দোরগোড়ায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন অব্যাহত উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের প্রায় ১৭ বছর পরও দেশের মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনর প্রতীক্ষায় দিন গুনছে। সাধারণ নাগরিকরা আশাবাদী, তবে রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন ইস্যু ও গুজবের মধ্যে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কখনো মিথ্যাচার, কখনো অপ্রমাণিত তথ্যের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে। এর ফলে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে সরকার সমর্থিত দল ও বিরোধী দলদের মধ্যে শক্তির সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ভোটারের ৩৫-৪০ শতাংশ অনিশ্চয়তা আগামী নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও জনগণের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। রাজধানী ও শহরাঞ্চলে রাতের অপ্রতুল নিরাপত্তা, ছিনতাই, ট্রাফিক জট এবং পুলিশের সীমিত কার্যক্রম নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুনরায় আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন, নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রয়াস অপরিহার্য। অন্যথায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন ব্যর্থতার শঙ্কা মোকাবিলা করতে পারে।
সার্বিকভাবে, আগামী নির্বাচনের ফলাফল ও স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে এই চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কতটা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তার ওপর।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে