দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ‘বেইমান’ আখ্যা পাওয়া ১২ নেতাকে আবারও দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে সিটি নির্বাচনের সময় বিএনপির ১৯ নেতা দলীয় নীতি উপেক্ষা করায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে এবার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনের জন্য।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাদের মধ্যে আছেন:
বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে ও ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন
মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. ফিরোজ আহমেদ
২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার
মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক
২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির
৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু
মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা বেগম
মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী সেলিনা বেগম
বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী রাশিদা পারভীন
মহানগর মহিলা দলের সাবেক সহ-সভাপতি জেসমিন সামাদ শিল্পী
১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সিদ্দিকুর রহমান
১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য জাবের আব্দুল্লাহ সাদী
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা খুন-গুমের শিকার পরিবারসহ গণতন্ত্রকামী জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। দল জানিয়েছিল, গণতন্ত্র উদ্ধারের ইতিহাসে তাদের নাম ‘বেইমান, বিশ্বাসঘাতক ও মীর জাফর’ হিসেবে উচ্চারিত হবে।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতিপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের কারণে প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল। লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ৯ জানুয়ারি তাদের প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৭ জানুয়ারি মহানগর বিএনপির সাবেক তিন যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ্ আমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলার।
বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে প্রশ্নবিদ্ধ সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওই নেতারা নির্বাচনের বৈধতা দেন।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে