বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও উত্তাপ ছড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক পরিচালকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ক্রিকেটারদের বেতন ও ক্ষতিপূরণ বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ‘অদায়িত্বশীল ও অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)। দাবি আদায় না হলে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম বুধবার ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে এক মন্তব্য করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশ্বকাপে অংশ না নিলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি হবে, কিন্তু বোর্ডের কোনো লোকসান নেই—এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ক্রিকেট অঙ্গন।
ঘটনার পরপরই রাতের বেলা কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানান, একজন বোর্ড পরিচালক এভাবে ক্রিকেটারদের নিয়ে কথা বলতে পারেন না। তিনি বলেন, অবিলম্বে এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ চাইছে কোয়াব। অন্যথায় বিপিএলের ম্যাচে কোনো ক্রিকেটার অংশ নেবেন না।
এই ঘোষণার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গভীর রাতে ক্রিকেটারদের টিম হোটেলে বৈঠকে বসেন বিসিবির কয়েকজন পরিচালক। দীর্ঘ আলোচনা হলেও বৈঠক থেকে কোনো দৃশ্যমান সমাধান বেরিয়ে আসেনি। বোর্ডের পক্ষ থেকে কেবল আশ্বাস দেওয়া হলেও ক্রিকেটাররা তাতে সন্তুষ্ট হননি।
বৃহস্পতিবার সকালে আবারও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন কোয়াব সভাপতি মিঠুন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ক্রিকেটাররা ঐক্যবদ্ধ এবং সিদ্ধান্তে অটল। সংশ্লিষ্ট পরিচালক দায়িত্বে থাকলে মাঠে নামার প্রশ্নই আসে না। আজকের প্রথম ম্যাচ না হলে পরবর্তী কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিসিবির একাধিক পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বোর্ডের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের এই মুখোমুখি অবস্থান দেশের ক্রিকেটকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত বিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং এই সংকট কত দ্রুত কাটে।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে