দ্বিতীয় বিয়েতে অনুমতি: হাইকোর্টের রায় ও আইন অনুযায়ী নিয়ম

১. আইনের মূল বিষয়:

  • ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারা অনুযায়ী, বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় কেউ আরেকটি বিয়ে করতে চাইলে আরবিট্রেশন কাউন্সিল (সালিস পরিষদ) থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
  • অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা আইনগতভাবে বৈধ হবে না এবং দণ্ডযোগ্য হবে।

২. আরবিট্রেশন কাউন্সিলের কাজ:

  • আবেদনকারী স্বামী অনুমতির জন্য নির্ধারিত ফরম ও ফি দিয়ে সালিস কাউন্সিলের কাছে দরখাস্ত জমা দেন।
  • কাউন্সিল আবেদনকারীর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীর প্রতিনিধিকে শুনে সিদ্ধান্ত নেবে।
  • অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়া উভয়ই আইনসঙ্গত। কাউন্সিল একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

৩. অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করলে কী হয়:

  • বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীর তলবি অনুযায়ী স্থগিত দেনমোহর বা অন্যান্য আর্থিক দায়পরিশোধ করতে হবে।
  • আইন অনুযায়ী এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

৪. হাইকোর্টের রায় (২০ আগস্ট ২০২৫):

  • রিট আবেদন করা হয়েছিল, যাতে বলা হয় দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক হোক
  • হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জ (খারিজ) করে জানিয়েছে, আইন ইতিমধ্যে ন্যায্য প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে।
  • আইন কোনো পক্ষের অধিকার হরণ করে না এবং সালিস কাউন্সিলের অনুমতি প্রক্রিয়া বৈষম্যমূলক নয়।
  • অর্থাৎ, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য এখনও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি সরাসরি বাধ্যতামূলক নয়, বরং সালিস কাউন্সিলের অনুমতি নেওয়াই প্রক্রিয়া।

৫. মূল সংক্ষেপ:

  • আইন অনুযায়ী: দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে সালিস কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে।
  • প্রথম স্ত্রীর সরাসরি অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়।
  • হাইকোর্টের রায় এই আইনকে বৈধ এবং বহাল রাখেছে।

Check Also

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।