ঢাকা: বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো।
আজ রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং ২০২৪ সালে যাঁরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজপথে নেমেছেন, তাঁরা একই ধারার সংগ্রামী যোদ্ধা। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি আলাদা বিভাগের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কল্যাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, যাঁদের আমরা হারিয়েছি, তাঁদের আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে যাঁরা পেছনে রয়ে গেছেন—তাঁদের পরিবারের কষ্ট লাঘব করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। আপনারাও মুক্তিযোদ্ধা, আপনারাও রাষ্ট্রের জন্য জীবন বাজি রাখা যোদ্ধা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভয়াবহতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ওই আন্দোলনে এক হাজার চার শতাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় তিন হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন, অনেকে চোখ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, যেভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তা এককথায় গণহত্যা।
২০২৪ সালের আন্দোলনের চরিত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো দল বা ব্যক্তির আন্দোলন ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থেকে শুরু করে দিনমজুর, গাড়িচালক, দোকানকর্মী, এমনকি শিশু পর্যন্ত এই আন্দোলনের শিকার হয়েছে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল—যার প্রমাণ সেদিনকার প্রতিটি দৃশ্য।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, আর ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতাকেই রক্ষা করা হয়েছে। এই চেতনা টিকিয়ে রাখতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় শহীদ ও আহতদের স্বজনদের বক্তব্য শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা এই আত্মত্যাগকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের ব্যাপারে গণতন্ত্রকামী মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।
আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ক্ষতিপূরণেই এই কষ্ট পূরণ সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই ত্যাগের মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতেও শোক আর বেদনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তিনি গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে