জামায়াতের জোটে চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের আসন সমঝোতা অনিশ্চয়তায়

ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আল্লামা মামুনুল হকের সঙ্গে আসন বণ্টন চূড়ান্ত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রামপুরার একটি মাদ্রাসায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শুরা কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতারা জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ইসলামী আন্দোলন প্রথমে শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে চাহিদা কমিয়ে সর্বশেষ দাবি হয়েছিল ৫০টির বেশি আসনের। তবে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০টি আসন ছাড় দিতে রাজি। এই ফারাকের কারণে সমঝোতায় টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ২৫ থেকে ৩০টি আসন চাইলেও জামায়াত সর্বোচ্চ ২০টি আসনে ছাড় দিতে পারে। কাঙ্ক্ষিত আসন না পাওয়া গেলে দলটি কিছু আসনে প্রার্থী উন্মুক্ত রাখতে চায়।

ইসলামী আন্দোলনের এক নেতা জানান, আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মূলত চরমোনাই পীরের ওপর নির্ভর করছে। তিনি যদি সমঝোতায় থাকেন, তাহলে মজলিসের সুপারিশগুলো কার্যকর হবে; না হলে সমঝোতা হবে না।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানা গেছে, আজ বিকেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে আসন সমঝোতা বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

এই জোটে শুরুতে ইসলামী আটটি দল ছিল—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। পরে সমঝোতায় যুক্ত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

Check Also

নির্বাচনী ব্যবস্থায় সততার সংকট, ভোটারদের আস্থার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা থেকে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।