বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী ছিলেন এক অমলিন প্রতীক—হাসি, চোখের ভাষা এবং অভিনয়ে যিনি মুগ্ধ করেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে আবির্ভাবের পরই তিনি হয়ে ওঠেন রোমান্স ও সৌন্দর্যের প্রতীক। ‘সুতরাং’, ‘হীরামন’, ‘ময়নামতি’, ‘সারেং বৌ’, ‘দেবদাস’, ‘সুজন সখী’, ‘পারুলের সংসার’ থেকে ‘তিতাস একটি নদীর নাম’—সকল ছবিতে তিনি দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করেছেন।
পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন কবরী। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, বাংলাদেশের সোনালি সিনেমা যুগে পাঁচ নায়কের প্রথম বড়পর্দার অভিষেক ঘটে তাঁর বিপরীতে। এই পাঁচ নায়ক হলেন—উজ্জ্বল, ফারুক, আলমগীর, সোহেল রানা ও জাফর ইকবাল।
উজ্জ্বল: ১৯৭০ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বিনিময়’ ছবিতে কবরীর বিপরীতে অভিষেক হয়। ‘লালন ফকির’, ‘বলাকা মন’, ‘অনুরোধ’–সহ আরও কয়েকটি ছবিতে কবরীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। উজ্জ্বল মনে করেন, “প্রথম চলচ্চিত্রে কবরীর মতো জনপ্রিয় নায়িকা পাওয়া বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি সবসময় সহযোগিতা করেছেন, তাই তিনি সত্যিই মিষ্টি মেয়ে।”
জাফর ইকবাল: তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ‘আপন পর’ সিনেমা দিয়ে। এই সিনেমাতেই কবরীর বিপরীতে প্রথম নায়ক হিসেবে হাজির হন। নতুন রোমান্স ও চরিত্রের গভীরতা তিনি দর্শকের কাছে উপস্থাপন করেন।
ফারুক: ১৯৭১ সালে ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে কবরীর বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে। নাটক থেকে অভিনয় শুরু করা ফারুক বলেন, কবরীর সঙ্গে কাজ করা তার অভিনয়ের জীবনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে।
সোহেল রানা: ১৯৭৪ সালের ‘মাসুদ রানা’ সিনেমায় কবরীর বিপরীতে প্রথম নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে। কবরী তাঁকে ‘পারভেজ ভাই’ বলে ডাকতেন; সোহেল রানা আজীবন কবরীকে তাঁর হিরোইন হিসেবে সম্বোধন করেছেন।
বাংলার সাধারণ নারীকে পর্দায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে কবরী ছিলেন অনন্য। সোহেল রানা বলেন, “বাংলার নারীর প্রতিচ্ছবি আমরা কবরীর মধ্যে পেয়েছি। তার মিষ্টি মুখ, হাসি ও অভিনয়–সবকিছুই অনন্য। আগামী ৫০ বছরে এমন আরেক কবরী জন্মাবে বলেও মনে হয় না।”
কবরী ও তাঁর বিপরীতে অভিষেক করা এই পাঁচ নায়কের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সিনেমার সোনালি যুগের এক বিশেষ অধ্যায় সৃষ্টি হয়েছে, যা আজও স্মরণীয়।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে