গারো পাহাড়ের কোলে ঘন সবুজ আর টিলায় টিলায় ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—দেখলে মনে হবে যেন কোনো অজানা স্বর্গভূমি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রে নেই তেমন পর্যটকের আনাগোনা।
শীতের মৌসুমে শাল-গজারির বনের ফাঁক গলিয়ে সূর্যের নরম আলো, ঝরনার শব্দ আর পাখির কলকাকলি লাউচাপড়াকে করে তোলে আরও মোহনীয়। তবু আবাসন, নিরাপদ পানীয় জল, মানসম্মত খাবার ও রাতযাপনের ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকেরা সন্ধ্যার আগেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
জেলা পরিষদের উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে নির্মিত এই বিনোদন কেন্দ্রে রয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, কটেজ, রেস্টহাউস ও প্রাকৃতিক লেক। তবে তিন দশক পেরিয়েও প্রয়োজনীয় আধুনিক সুবিধা গড়ে না ওঠায় সম্ভাবনাময় এই পর্যটনকেন্দ্রটি আজও অবহেলিত।
পর্যটকেরা বলছেন, এত বড় এলাকা কয়েক ঘণ্টায় ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। থাকার ব্যবস্থা থাকলে সারা বছরই এখানে ভিড় জমত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পর্যটক না থাকায় হতাশ।
জেলা পরিষদ জানিয়েছে, লাউচাপড়া পিকনিক স্পট উন্নয়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে বিনিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রশ্ন থেকে যায়—এত অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও, যথাযথ পরিকল্পনা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে লাউচাপড়া কি আরও দীর্ঘদিন পর্যটকের অপেক্ষায় থাকবে?
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে