ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান এখন জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড আমির—এমন খবরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মিজানুর রহমান খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ৩১ নম্বর সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি তৎকালীন আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দলীয় পরিচয়ের সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে মিজানুর রহমানকে জামায়াতে ইসলামীর খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
খাড়েরা ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সভাপতি নাসিরুদ্দিন বলেন,
“হাসিনা সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে নানা সুবিধা নিয়েছেন। এখন পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজের কুকর্ম আড়াল করতে জামায়াতের রাজনীতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। জনগণ সবই বোঝে।”
একই সুরে কৃষক দলের সদস্য সচিব বাবুল মিয়া বলেন,
“জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন দুঃখজনক। রাজনীতি আদর্শের জায়গা হলেও এখানে কেবল ব্যক্তিস্বার্থই দেখা যাচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান কালবেলাকে বলেন,
“আমি আগে মেম্বার ছিলাম, এখনো আছি। সে হিসেবে হয়তো আমাকে আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নাম দিয়ে রাখা হয়েছে। যখন যে সরকার থাকে, সাধারণত তার সঙ্গেই থাকতে হয়। কে কখন নাম বসিয়েছে, তা আমি জানি না।”
এদিকে খাড়েরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির শরীফ উদ্দিন বলেন,
“বছরখানেক আগে মিজান মেম্বার আমাদের ওয়ার্ড আমির নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি যে আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন, তা আমার জানা ছিল না।”
কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পীরজাদা শিবলী নোমানী বলেন,
“মিজান মেম্বার আওয়ামী লীগের সদস্য—বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
এক দল থেকে আরেক দলে নেতার অবস্থান পরিবর্তনের এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নৈতিকতা ও আদর্শের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
kalchitro.com সত্য প্রকাশে সবার আগে প্রতি মুহূর্তে